Friday, August 2, 2019

ইউটিউব সাক্সেস গাইডলাইন A টু Z

ইউটিউব সাক্সেস গাইডলাইন A টু Z


আজকে আমরা ইউটিউব এ সফল হওয়ার ১০ টা টপিকস আলোচনা করবো যা কিনা নতুন পুরাতন সকল ইউটিউবারদের অনেক বেশি হেল্প করবে তাদের চ্যানেল গ্রো করতে। কথা বলবো কিছু আমেজিং অনলাইন টুলস যা আপনার ভিডিও র‍্যাঙ্ক করাতে হেল্প করবে, হেল্প করবে চ্যানেল ও ভিডিও এনালাইসিস করতে। কথা বলবো ইকুইপমেন্ট নিয়ে, আর কিভাবে প্রথম পর্যায়ে সাবস্ক্রাইব ছাড়াই পাবেন অনেক অনেক ভিউ???
ইউটিউব নিয়ে এই পোস্ট টি হতে পারে আপনাদের জন্য ইউটিউব এ কাজ শুরু করার একটি সঠিক এবং পুরনাঙ্গ পাথেয়। তো, ধৈর্য ধরে পুরো লিখা টি পড়ুন। কারণ ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম টাই একটা ধৈর্যের খ্যালা। সেই খেলা না হয় আজ থেকেই শুরু হোক!

১। কি নিয়ে কাজ করবো?
এটা যেন প্রথম প্রশ্ন ইউটিউব এ আসার আগে। কি নিয়ে কাজ করবো? আমার নিশ কি হবে? এটা আপনি করতে পারেন দুই ভবে।
ক ) যা নিজে পারেন বা যেই কাজে আপনি অনেক প্রফেশনাল সেটা করুন। এটাতে আপনার কম শ্রম দিতে হবে আর খুব সহজেই আপনি ভিডিও গুলি তৈরি করে ফেলতে পারবেন।
খ ) বর্তমানের হট টপিক বা নিশ গুলি নিয়ে কাজ করুন। সমাজে বা পৃথিবীতে যে টপিকস গুলি অনেক চলে, সেগুলি নিয়ে কাজ করলে খুব ইজিলি ভিউ পাওয়া যাবে কারণ পুরা দুনিয়ার মানুষ সেগুলি খুঁজে ব্যাড়াচ্ছেন।

কিভাবে যথাযথ নিশ খুঁজে পাবো?
এবার আসি কি করে খুঁজে পাওয়া যাবে উপযুক্ত শব্দ বা নিশ যা কিনা হট আর ভীষণ ডিমান্ডেবল? আসুন আমরা কিছু টুলস এর সাথে পরিচিত হই...
ক ) গুগোল ট্রেন্ডসঃ এর মাধ্যমে আপনারা বিশেষ জায়গা বা পুরো দুনিয়া জুড়ে কোন কোন টপিক গুলি চলছে বা অনেক বেশি ট্রেন্ডি তা জানতে পারবেন। বিশেষ একটা কিওয়ার্ড দিয়ে খুব ইজিলি তার মাধ্যমে খুঁজে নিতে পারবেন বর্তমানে চলা হট সব নিশ গুলিকে।
খ ) গুগোল কিওয়ার্ড প্ল্যানারঃ এটা গুগোলের আরেকটা সার্ভিস। এখানে আপনি জানতে পারবেন কোন কিওয়ার্ড টা অনেক বেশি সার্চ দিয়েছে, কোনটার ডিফিকাল্টি বেশি, কোনটা র‍্যাঙ্ক এ আছে সাথে নানান সাজেশান।
গ ) গুগোল সার্চ ইঞ্জিনঃ গুগোলে সার্চ কোরেও জানতে পারবেন বর্তমানে কি চলে। ধরুন আপনি Digital marketing নিয়ে কাজ করছেন। তো গুগলের শুরুতে Digital marketing লিখলেই দেখবেন নিচে সাজেশানে চলে এসেছে Digital marketing online, Digital marketing in bangladesh, Digital marketing course, Digital marketing course online ইত্যাদি। এইগুলা হল হট টপিক। সাথে সার্চ রেজাল্ট এর নিচে দেখবেন আরও কিছু সাজেশান এসেছে। এগুলিও অনেক হট।
ঘ ) কিওয়ার্ডস এভরিহয়ারঃ keywordseverywhere একটা ছোট ব্রাউসার প্লাগিন যা দিয়ে আপনি জানতে পারবেন গুগোল ও ইউটিউব এ সার্চ করা কোন কিওয়ার্ড এর মান্থলি সার্চ ভ্যালু কতো। যেমন এটা ইন্সটল করা থাকলে Digital marketing লিখে সার্চ দিলে সার্চ বারের নিচে দেখাবে মাসে কতজন মানুষ এটা লিখে সার্চ দেয়।


২। চ্যানেল শুরু করার আগেঃ
ধুম ধাম কোন কিছু করাই ভালো না। কিছু শুরুর আগে অবশ্যই তা নিয়ে চিন্তা করা উচিৎ। এখানে আমরা জানবো কি কি করতে হবে চ্যানেল শুরু করার আগে।
- স্টাডিঃ চ্যানেলের জন্য স্টাডির কোন বিকল্প নেই। আপনার নির্বাচিত নিশ নিয়ে কে কি করছে, কেমন করছে, কিভাবে করছে ইত্যাদি স্টাডি করুন। সেগুলি থেকে ধারণা নিন আর নিজেকে তাদের থেকে ভালো করার চেষ্টা করুন।
- লোভ সংবরণঃ যদি চান টাকা কামানোর চিন্তা থেকে ইউটিউব এ আসতে, তাহলে তা ভুলে যান। এটাকে ভালোলাগা বা প্যাশান হিসেবে নেয়ার চেষ্টা করুন। কারণ টাকার চিন্তা থেকে আসলে সেখানে হতাস হওয়ার সম্ভাবনাই অনেক বেশি।
- কন্টেন্ট এর সাইট ম্যাপ তৈরি করুনঃ সাইট ম্যাপ বা প্লান অনেক দরকারি। শুরুতেই ১০০ টপিক তৈরি করে ফেলা অনেক ভালো একটা প্র্যাকটিস নতুনদের জন্য। তাতে করে ভিডিও গুলির মধ্যে লিঙ্ক করা সুবিধা হয়, মাঝ পথে ভিডিও পোস্ট করা থেমে যায় না আর খুব সহজে ভিউয়ার পাওয়া যায়।
- স্ক্রিপ্টিংঃ যে ভিডিও টা করবেন তা লিখে নিন। তাতে করে অনেক অবাঞ্চিত কথা খুঁজে পাবেন যা মুছে দিতে পারবেন। ভিডিও হবে ছোট কিন্তু ইফেক্টিভ।
- ক্রিয়েটিভ ভিডিওঃ একি ধরনের ভিডিও মেক করা থেকে বিরত থাকুন। ট্রাই করুন নতুন নতুন ভাবে ভিডিও মেক করার। তাতে করে ভিউয়ার দের বরিং লাগবে না আর নতুন ভিউয়ার যোগ হবে।
- অতিরিক্ত চিন্তা বাদ দিন: শুরু করুন সিম্পিল ভাবে। শুরু তেই অনেক ইনভেস্ট করা বাদ দিয়ে যত টুকু না হলেই নয় তাই দিয়ে শুরু করুন।


৩। চ্যানেল চলাকালিন সময়েঃ
যখন থেকে আপনি ভিডিও পোস্ট করা শুরু করবেন তখন বিশেষ কিছু দিক খেয়াল রাখতে হবে
- ভিডিও বানিয়ে যান। কারণ শুরু টা তো করতেই হবে। আর এভাবেই সামনে বাড়বেন আপনি।
- রেগুলার ভিডিও দিন। কম দিন আর বেশি, ভিডিও পাব্লিশ করার ফ্লো টা বজায় রাখুন। এটা ইউটিউব ও সাবস্ক্রাইবার দুজনেই অনেক পছন্দ করে।
- কুয়ালিটির থেকে কুয়ান্টিটির দিকে বেশি নজর দিন। মানে সুপার কুয়ালিটি ভিডিও সপ্তায় ১ টা না দিয়ে মাঝারি কুয়ালিটির ভিডিও সপ্তায় ৩ টা দিন। তাতে করে ভিউ অনেক বেশি হবে।
- শুরুর দিকে নানান কায়দায় ভিডিও দিয়ে তা টেস্ট করুন কোন ধরনের ভিডিও পাবলিক বেশি পছন্দ করে।
- নিজের পুরানো ভিডিও থেকে শিখুন। ইউটিউব এনালাইটিক্স থেকে আগের ভিডিও গুলি স্টাডি করুন আর দেখুন কোন ভিডিও গুলির ভিউ বেশি, কবে বেশি ভিউ হয়েছে ইত্যাদি। সেগুলি থেকে আইডিয়া নিয়ে নতুন ভিডিও বানান।
- ভিডিও পোস্ট করার আগে নিজে ও বন্ধু দের দেখান। তাতে করে আপনার জানা ও অজানা ভুল গুলি সামনে চলে আসবে।


৪। যে কাজ গুলি অবশ্যই করতে হবেঃ
- আপনার টার্গেট অডিয়েন্স খুঁজে বের করুন। তাদের কে টার্গেট করে ভিডিও বানান। তাহলে ভিউ নিয়ে আর চিন্তা থাকবে না।
- যে ভিডিও গুলি অনেক বেশি পপুলার, সেই ধরনে ভিডিও রিপিট মেক করুন।
- আপনার চ্যানেল আর্ট এ বা কভারে যে যে দিন ও সময় ভিডিও দেবেন তা লিখে দিন। তাতে করে মানুষের বিশ্বাস আর সাবস্ক্রাইবার বাড়বে। রেগুলার অডিয়েন্স ক্রিয়েট করা ইজি হবে।
- এমন ভিডিও বানান যা সাস্টেইন করে লম্বা সময় ধরে। যেমন ধরেন কুকিং, বা ক্রাফট, বা মটিভেশনাল ইত্যাদি এগুলির কিন্তু কোন ডেডলাইন হয়না। মানুষ সব সময় দেখে। সো এই ধরনের ভিডিও গুলি হল সাস্টেইনেবল ভিডিও।
- এমন ভিডিও বানান যা সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।
- ভিডিও গুলি যেন শেয়ার করার মতো হয়।
- অন্য ইউটিউবার দের সাথে বন্ধুত্ব করেন। বাইরে অনেক বড় বড় ইউটিউবার নিজেরা এক সাথে লাইভ করেন। একজন আরেক জন কে প্রমট করেন। এখানে ছোট বড় বোলে কিছু নাই। তাই অন্য দের শত্রু বা কম্পেটিটর হিসেবে না দেখে বন্ধু হিসেবে দেখুন। তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখুন আর সবাই এক সাথে গ্রো করুন।
- ভিডিও পাব্লিশ করার অন্তত প্রথম ৭ দিন রেগুলার কমেন্ট এর রিপ্লে করেন।
- ফেসক্যাম করেন। মানে নিজের চেহারা দেখিয়ে ভিডিও মেক করেন। অনেকে নিজেকে লুকাতে চান কিন্তু এটা মানুষের কাছে পউছতে অনেক বড় বাধা।
- নিজের ব্যাপারে বলুন, নিজের রিয়াল লাইফ উদাহরণ দিন। তা বড় বড় মনিষী দের উদাহরণের থেকে বেশি কার্যকরী।
- ইডুকেশনাল বা টিউটোরিয়াল টাইপ না হলে ভিডিওর দৈর্ঘ্য বেশি বড় করবেন না। সাধারণত ৮-১২ মিনিট একটা ভিডিওর জন্য যথেষ্ট।
- ট্রেন্ডি টপিক নিয়ে ভিডিও মেক করেন। আপনার নিশ যাই থাকুক, ভিউয়ার দের আকর্ষণ করতে আর নতুন সাবস্ক্রাইবার পেতে কারেন্ট টপিকে ভিডিও মেকের কোন বিকল্প হয়না।
- নতুন রা চ্যানেলের ইন্ট্র ভিডিও তে (চ্যানেলে আসলে প্রথমে যে ভিডিও দেখায়) চ্যানেলের ব্যাপারে বলুন ১-২ মিনিট। তাতে করে মানুষ চ্যানেলের ব্যাপারে জানতে পারবে আর সাবস্ক্রাইবার বাড়বে।
- ব্যাবহার করুন ভিডিওর শেষে এন্ড কার্ড এবং আই পপআপ। আর এগুলির কথা ভিডিও তে মেনশান করতে ভুলবেন না যেন। মনে রাখবেন, একটা প্রপার প্ল্যান্ড ভিডিও যে কোন রেন্ডম ভিডিওর থেকে বেশি স্থিতিশীল ও জনপ্রিয় হয়।


৫। যেগুলি করা যাবে না একেবারেইঃ
- ডিরেক্ট ক্যামেরার লেন্সে না তাকিয়ে কথা বলা। যাদের মবাইল বা ফ্লিপ স্ক্রিন ক্যামেরা আছে, তারা অনেক সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন। এটা না করে ক্যামারার দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন।
- সাবস্ক্রাইবের জন্য ঘ্যান ঘ্যান করবেন না বার বার। একবার বলুন বা দুইবার। সাথে ওয়াটার মার্ক ইউস করতে পারেন সাবস্ক্রাইব বাটান হিসেবে। লিখে দিন, ইমেজ দিন কিন্তু নিজের টপিকে বলতে থাকেন।
- বেশি ভিউ পাওয়ার জন্য ভুল ভাল টাইটেল দিবেন না।
- একেবারে মেসি ব্যাকগ্রাউন্ড, বাজে বা মবাইলের মাইক্রোফোন ইত্যাদি ইউস করা থেকে বিরত থাকুন।
- চুপসে যাবেন না। কথা বলুন পুরো উদ্দীপনায়, প্রাণবন্ত ভাবে।
- আপ টু ডেট না থাকা। রেগুলার বর্তমানের সাথে সিঙ্ক থাকতে হবে। যেটা এখন চলে আপনার নিশের সাথে তাই নিয়ে ভিডিও করতে হবে। যেমন কোন সফটওয়ারে যদি লেটেস্ট ভারশন হয় ৫ আর আপনি ৩ ভারশন নিয়ে ভিডিও বানান তবে তা ভিউ হবে না বলাই বাহুল্য।
- ভিডিও তে বেশি ইফেক্ট বা কালার বা জিবিজিবি সাউন্ড ইউস করবেন না। সব কিছু সিম্পিল রাখুন।
- ভিডিও তে অযথাই কথা বোলে সময় নষ্ট করবেন না। ডিরেক্ট টু দি পয়েন্ট এ কথা বলুন। যত টুকু দরকার।


৬। সাবস্ক্রাইবার না থাকলেও ভিউ হবেঃ
শুরুতে এই বিপদে অনেকেই পড়েছেন। সাব নেই তবে ভিউ আসবে কই থেকে? এর জন্য যা করতে পারেন-
- যা মানুষ সার্চ করে তাই ভিডিও হিসেবে বানিয়ে ফেলুন। এর জন্য কিওয়ার্ড স্টাডি বা রিসার্চ অবশ্যই দরকার পড়বে।
- সামাজিক মাধ্যম গোড়ে তুলুন। অনেকেই আছে দেখবেন ৫ হাজার ফ্রেন্ড বানায় রাখছেন, কিন্তু ভিডিওর ভিউ মাত্র ২০ টা। এর কারণ যা বুঝে অডিয়েন্স ক্রিয়েট করা। শুধু এলো মেলো লোক দের অ্যাড করলেই সেখান থেকে আপনি ভিউ পাবেন না। যারা আপনার নিশে আগ্রহী তাদের টার্গেট করুন। দরকার হলে চ্যানেলের আগে গ্রুপ খুলুন। সেখানে সাহায্য মূলক পোস্ট করুন। সেটা কন্টিনিউ করুন কয়েক মাস। তার পর চ্যানেলের কাজ শুরু করুন। এতে করে সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু তেই অনেক ভিউ পেতে পারেন।
- ইউটিউব অ্যাডসঃ চাইলে কম খরচে ইউটিউব অ্যাড রান করতে পারেন। কিংবা চালাতে পারেন ফেসবুক পেজ অ্যাড ক্যাম্পেইন। যে কোন জায়গা থেকেই চাইলে বুদ্ধি খাটিয়ে বের করে আনতে পারেন ভিউয়ারস।


৭। ইকুইপমেন্টসঃ
কি কি কিনবেন, কেমন ধরনের কিনবেন তা ঠিক করা মুশকিল। আসুন আমরা বেসিক ধারণা গুলি নিয়ে আসি।
- ক্যামেরাঃ ভিডিওর জন্য সাধারণত ডিএসএলআর ক্যামেরা গুলি ভালো হয়। নিকন অনেক ভালো ব্র্যান্ড হলেও অনেকেই সাজেস্ট করেন ক্যানন। এখন আসি কোন ক্যামেরা কতো রেঞ্জ এর মধ্যে পাওয়া যায়। সাধারণত ক্যামেরা তিন ধরনের হয়ে থাকে।
ক ) প্রফেশনালঃ যা দিয়ে অনেক প্রফেশনাল মানের ভিডিও তৈরি করা যায় যেমন canon 5D mark 3। তবে এর দাম আকাশ চুম্বি। তাই শুরুতে এর কথা ভাবাও বারণ। তবে যারা মুভি মেকিং টাইপ কাজ করতে চান তারা এগুলি ট্রাই করে দেখতে পারেন।
খ ) সেমি প্রফেশনালঃ এগুলির দাম একটু কম তবে দরকারি সব ইফেক্ট পেয়ে যাবেন যা যা দরকার ইউটিউব এর জন্য। গুগোল করলে বা ইউটিউব করলে এমন আরও অনেক ক্যামেরার সন্ধান পাবেন যার দাম ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ এর মধ্যে। মিড রেঞ্জ এর ক্যামেরা গুলির মধ্যে canon 80D টা অনেকেই সাজেস্ট করেছেন।
গ ) পারসোনাল: এছাড়া পারসোনাল ক্যামেরা গুলি অনেক ভালো, এগুলি রেঞ্জ এর মধ্যে মানে দাম পড়বে ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার এর মধ্যেই। সব থেকে বেশি ভালো হবে canon 200D, তার পর cannon T5i, 6D, 7D, 70D এগুলি ও ভালো মডেল।
ঘ ) Mobile: আগেই বলেছি, ইউটিউবে কুয়ালিটির শেষ নাই। তবে শুধু ওয়েবক্যাম বা মবাইল দিয়ে উপরে উঠেছেন এমন চ্যানেল এর শংখা অগণিত। আর তাই চাইলেই শুরু টা করতে পারেন ভালো একটা মবাইল দিয়ে, সাথে লাগবে ট্রাইপড। ব্যাস, এতো চিন্তার কিছু নেই। আগে শুরু করুন তার পর আস্তে আস্তে আপগ্রেড করা যাবে।

লেন্সঃ সাধারণত 18mm-135mm লেন্স ব্যাবহার করা হয় যদি দূর থেকে কিছু ভিডিও করার দরকার পরে। প্রাইম লেন্স এই ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায় কারণ তা অন্ধকারে অনেক বেশি ভিজিবিলিটি দিয়ে থাকে। আর যদি হয় কাছের ফেসক্যাম, কুকিং বা রিভিউ এর ভিডিও তাহলে 18mm-55mm প্রাইম লেন্স ই যথেষ্ট।

লাইটিংঃ আমি সাজেস্ট করবো ম্যাক্সিমাম ভিডিও ডে লাইট বা দিনের আলো তে করার জন্য। শুরু তেই ভারি বা দামী কিছু না কিনে বাসায় বানিয়ে নিতে পারেন এলিডি দিয়ে নিজের লাইট সোর্স। ইউটিউব এ এর ভিডিও ও কিন্তু কম নেই। আমি নিজেউ বানিয়েছি খুব সহজে আর কম খরচে। ট্রাই করে দেখতে পারেন। তবে চাইলে একটু খরচ করে ভালো মানের সফট বক্স নিতে পারেন গোডক্স এর গুলি আমাদের দেশের অনেকেই নিয়েছেন। এছাড়া কিছু ডিস্কাউন্ট বিডি শপ থেকে কিনতে পারেন রিং লাইট। এটা ইফেক্টিভ আর ফ্যাসিনেটিং।

মাইক্রোফোনঃ ভিডিও মেকিং এর ক্ষেত্রে মাইক একটা ভিশন দরকারি জিনিস। মবাইল ক্যামেরা দিয়ে কাজ চালানো গেলেও মবাইল মাইক দিয়ে হয়না ভালো মানের রেকর্ডিং। তাই শুরু থেকেই আপনাকে ইউস করতে হবে ভালো একটা মাইক্রোফোন। কমের মধ্যে হ্যাভিট এর কিছু মাইক আছে। সেগুলি দেখতে পারেন। রেঞ্জ হবে ৩০০-৮০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া মবাইল, ডিএসএলআর আর ল্যাপটপ এর জন্য বেস্ট হল কম দামে বয়া বাই এম ওয়ান (boya by M1) মাইক টা। আমি নিজে ইউস করছি এই মাইক টা। তবে আরেকটু বেশি রেঞ্জ এ যেতে চাইলে ইউস করতে পারেন BM 800, BM 100 FX যার দাম পড়বে ২৫০০ থেকে ৩৫০০ পর্যন্ত । এগুলির জন্য আপনার আলাদা ফ্যান্টম পাওয়ার সাপ্লাই দরকার হতে পারে। এ ছাড়া ভালো মানের মাইক পাবেন ৫৫০০ থেকে ৮০০০ টাকার মধ্যে যেগুলি হল Fifine K670 USB, Snow ball etc। এর উপরে অডিও টেকনিকা বেশ ভালো যার দাম ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু।
যদি ওয়্যারলেস মাইক চান তাহলে বয়ার কিছু মাইক আছে যা দেখতে পারেন। আমার জানা মতে বিডি শপে এগুলি সব থেকে কম প্রাইসে পাওয়া যাচ্ছে। (আমি ও আমার বন্ধুরা অনেকেই কিনেছেন, তাই খুব সহজে কম্পেয়ার করতে পারছি) Fifine K670 USB মাইক টা আমি নিজে ইউস করছি। আমার বন্ধুরা যারা যারা কিনেছে এখান থেকেই কিনেছে কারণ অন্য জায়গা গুলিতে এগুলির দাম প্রায় ডাবল। যারা বাইরে থেকে আনাতে চান তারা বাইরে থেকেও আনিয়ে নিতে পারেন তবে তাতে ওয়ারেন্টি থাকলে বাংলাদেশে তা পাবেন না :)।


৮। কিওয়ার্ড রিসার্চ ও এনালাইসিস টুলঃ
- ইউটিউব সার্চঃ এখান থেকে আপনি পেয়ে যাবেন অনেক অনেক তথ্য। তবে সময় দিতে হবে আর বুদ্ধি খাটিয়ে বার করতে হবে ডাটা।
- টপ ভিডিওসঃ আপনার নিশ রিলেটেট টপ ভিডিও গুলি খুঁজে বের করুন জেগুলির ভিউ বেশি। সেগুলি স্টাডি করুন। ট্যাগ ও টাইটেল রিসার্চ করে নিজের ভিডিও মেক করুন।
- টিউব বাডি ও ভিড আইকিউঃ এই দুটি অনেক টা ইউটিউব এ পারসোনাল এসিস্টেন্ড এর মতো কাজ করে। আপনার ভিডিও ও অন্য দের ভিডিও এনালাইসিস করা থেকে শুরু করে ভিডিও আপলোড করা পর্যন্ত সব কিছু পেয়ে যাবেন এই এদের কাছে। যারা ইউটিউব এ কাজ করেন অথচ এদের নাম শুনেন নি এমন লোক হয়তো দুনিয়ায় নেই। এগুলি নিয়ে ইউটিউবে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন পুরো ব্যাবহারিক টিউটোরিয়াল।
- কিওয়ার্ডটুল ডট আইওঃ keywordtool.io হচ্ছে কিওয়ার্ড র‍্যাঙ্ক দেখার একটা টুল। এটা যদিও ফ্রি ভার্শনে বেশি কিছু দেখতে দেয় না, তবে আপনি টপ কিওয়ার্ড গুলি এটা দিয়ে দেখতে পারবেন, সেগুলি নিয়ে রিসার্চ করতে পারবেন।
- উবারসাজেস্টঃ নীল পাটেল কে চিনেনে না এমন ইউটিউবার অনেক কম ই আছেন। তো সেই সূত্রেই উবারসাজেস্ট (https://neilpatel.com/ubersuggest/) ব্যাবহার করে দেখেন। এখানে কিওয়ার্ড এনালাইসিস থেকে অনেক ভালো ভালো সাজেশান পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত এটা ফ্রি তেই ইউস করা যাচ্ছে।
- সোশ্যাল ব্লেডঃ socialblade.com, একটা চ্যানেল এনালাইটিক টুল। এটা আপনার ও অন্য কারো চ্যানেলের গ্রথ, র‍্যাঙ্ক ইত্যাদি সব দেখাবে। এতে করে জানতে পারবেন কার চ্যানেল কি রকম গ্রো করছে, স্টাটিস্টিক্স, কোথায় ল্যাকিং আর অনেক অনেক এনালিটিক্স শো করে যা দাড়া অনেক ভালো চ্যানেল স্টাডি করা পসিবল হয়।
- এন্সার দ্যা পাবলিকঃ কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য answerthepublic.com ভিশন ভালো একটা সাইট। এখানে কোন কিওয়ার্ড দিয়ে দিলে তার প্রেক্ষিতে অনেক অনেক প্রশ্ন খুঁজে বার করা হয় যা কিনা কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও করেছেন। এখানে সেই শব্দ দিয়ে can, are, how, what, which, when ইত্যাদি নানান ক্যাটাগরি তে নানান প্রশ্ন দেয়া হবে যা আপনাকে টাইটেল মেকিং এ হেল্প করবে।
- টাইটেল জেনারেশানঃ এবার আসি সরাসরি টাইটেল বানানোতে। title-generator.com দিচ্ছে আপনাকে সেই সুবিধা। শুধু মাত্র কিওয়ার্ড দিয়ে দিলেই তা আপনার সামনে হাজির জবে সেই শব্দ ইয়ে অনেক অনেক টাইটেল যা আপনি নিজের চ্যানেলের ভিডিওর জন্য ইউস করতে পারেন।


৯। ভিডিও প্রডাকশানঃ
এবার চলে আসি ভিডিও তৈরি তে। অনেকেই অনেক সফটওয়ার ব্যাবহার করেন। তবে আমার কছে হালকার মধ্যে ক্যামতাসিয়া, আর ফিলমোরা অনেক কাজের বোলে মনে হয় আর আমি ইউস ও করি। ফিলমোরা ইউস করে অনেক আগে থেকে তৈরি করা ইফেক্ট পাবেন যা ইউটিউব এ বেশ কাজে দিবে টাইটেল ও ইন্ট্র মেকিং এ। এছাড়া প্রফেশনাল সফটওয়্যার এর মধ্যে আমি ইউস করি এডোবি প্রিমিয়ার প্র। এর থেকে কিছু সহজ কিন্তু অ্যাডভান্স লেভেল এর আরেকটা সফটওয়্যার হচ্ছে দ্যা ভিঞ্চি রিসল্ভ। ইউটিউব এ এদের প্রত্যেকের অনেক অনেক ভিডিও দেয়া আছে। দেখে দেখে শিখে নিন আর প্রডিউস করুন আমেজিং সব ভিডিও।


১০। পোস্ট ও অপ্টিমাইজেশানঃ
এবার চলুন ভিডিও পোস্ট করা যাক।
- টাইটেলঃ বেস্ট টাইটেল এর জন্য আগে থেকে সার্চ বা স্টাডি করা ইউটিউব এর টপ ভিডিও গুলির কোন বিকল্প নেই। এছারা আপনার খুঁজে বার করা টপ কিওয়ার্ড গুলি দিয়ে নিজের ইচ্ছা মতো টাইটেল তৈরি করতে নিতে পারেন। এছাড়া উপরে উল্লেখিত অনলাইন টুল ইউস করে খুঁজে নিতে পারেন আপনার কাঙ্কিত টাইটেল।
- ডিস্ক্রিপশানঃ এখানে মুল টপিক টা লিখুন ১ম দুই লাইনের মধ্যেই। কারণ গুগোলে এই দুই লাইন টাই শুধু দেখাবে সার্চ করলে। তার পর চেষ্টা করুন ভিডিও এর ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে। এখানে দরকারি লিঙ্ক গুলি যুক্ত করুন।
- ট্যাগসঃ এই ক্ষেত্রে টিউব বাডি ও ভিড আইকিউ ইউস করতে পারেন। আগে থেকে সার্চ করা কিওয়ার্ড গুলি ট্যাগ হিসেবে ইউস করুন। সাথে ইউস করুন লং টেইল কিওয়ার্ড।
- থাম্বনেইলঃ ভিডিওতে থাম্বনেইল অনেক গুরুত্ব রাখে। আপনার নিশের সিমিলার ভিডিও টা খুঁজে বের করে আপনার থাম্বনেইল সেগুলির থেকে আলাদা করার চেষ্টা করুন। তাহলে তা বেশি নজর কাড়বে। আর এই থাম্বনেইল তৈরির জন্য ব্যবহার করতে পারেন ফটোশপ, আর যদি তাতে দক্ষতা না থাকে তো ইউস করুন ক্যানভা canva.com এটায় অনেক টেমপ্লেট পাবেন যা আপনার থাম্বনেইল তইরিতে অনেক উপজুগী। একটু ঘাটলেই আপনি সহজেই তৈরি করতে পারবেন আপনার আকর্ষণীও থাম্বনেইল।

পোস্ট টা একটু বড় হয়ে গেলো হয়তোবা, কিন্তু দরকারি সকল কন্টেন্ট রাখার চেষ্টা করেছি। শুধু বাকি থাকলো ইউটিউব নিয়ে নানান ধরনের উপার্জনের উপায় গুলি বলা। যদি আপনাদের এনাফ সারা পাই, তবে খুব শিগগিরি কি কি উপায়ে আপনি ইউটিউব এর মনিটাইজেশান ছাড়াই টাকা উপার্জন করতে পারবেন সেই পদ্ধতি গুলি নিয়ে হাজির হবো। আপনি আগ্রহী কিনা তা কমেন্ট এ জানাতে ভুলবেন না। আর কোন প্রশ্ন থাকলে তাও আমাকে কমেন্ট এ জানান। হ্যাপি ইউটিউবিং

No comments:

Post a Comment